এস এম সাথী বেগম
অফিসের কাজে ঢাকা গিয়ে কাকার বাসায় উঠি। এবারও বরাবরের মত উঠলাম কাকার নতুন ভাড়াটে বাসায়। কাকা সাবলেট হিসাবে আছে। বাড়িওয়ালা সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভাগে চাকরি করে। উনার বরাদ্দকৃত বাসায় দু’রুমে কাকারা। রান্না ঘর একটা কিন্তু টয়লেট আলাদা আলাদা। যা হোক বাসায় কেউ ছিল না কাকী স্কুলে গিয়েছিল তার মেয়ে ঝিনুককে আনতে।
আর বাড়িওয়ালার স্ত্রী চলে গেছে তার অফিসে। আমি খুব ক্লান্ত গোসল সেরে রুমে গিয়ে বাউজ পরছি। শাড়িটা সেই জড়াতে যাব দেখি বাড়িওয়ালা ড্যাবড্যাব করে দেখছে। লজ্জায় আমি কোথায় লুকাবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। নিজের বোকামীর জন্য নিজেকে এক চোট গালি দিলাম।
ভুলেই গিয়েছিলাম তখন কার কথা। ঐ রোডে কোন বাসায় ঠিক মত পানি থাকে না। দেখলাম প্রায় প্রতিটি বাসার গেটে ভ্যান দিয়ে পানি আনছে। হঠাৎ হঠাৎ পানি আসছে আর সেই পানি তুলে রাখার জন্য চলছে গৃহিনীদের প্রতিযোগীতা।
রাতে বিছানায় শুয়ে আছি ঘুম আসছিল না, রুমের দরজা বরাবর আমি শুয়ে দরজা দিয়ে সব দেখছি কে কি করছে। দরজাটা নেট লাগানো রুমের ভিতর থেকে সব দেখা যায়। কিন্তু বাইরে থেকে ঐ নেটের ভিতর দিয়ে ভিতরটা দেখা যায় না। শুয়ে শুয়ে লক্ষ্য করছি বাড়িওয়ালা পানি আসার অপেক্ষা করছে। একবার এ বাথরুম আবার ঐ বাথরুমে যাচ্ছে শব্দ শুনে বুঝতে পারছি।
অল্প অল্প পানির শব্দ আসছে। ওনাদের বাথরুমে একবার পানি বালতিতে ভরাচ্ছে আবার কাকীদের বাথরুমে পানি ভরাচ্ছে। ঘুম নেই চোখে। ঐ দৃশ্য দেখতে মন্দ লাগছিল না। মনে মনে হাসছি, মজাও পাচ্ছিলাম। এই ভেবে যে ঢাকায় পানির এত কষ্ট অথচ আমরা জানিনা পানির দাম আছে। পানি যে ভাবে ইচ্ছা সে ভাবেই পানির দামে পানি খরচ করি।
ভাবতে থাকি পুকুর পেলেই সাঁতার কাটতে নেমে পরি। ঠান্ডা জ্বর হবে মনেই থাকে না। আর এখানে পানির কষ্টে গোলসটা পর্যন্ত করতে ভয় পাই। ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম জানি না। সকালে উঠে অফিসে যাব প্রস্তুতি নিচ্ছি। কাকীর গ্যাসের চুলা নিভে গেছে। কাকী আমাকে বলল তুমি উনাদের রুম থেকে ম্যাচটা আনো তো?
ম্যাচ নিতে বাড়িওয়ালার রুমে গিয়ে দেখি বাড়িওয়ালা তার সাত আট বছরের দুই ছেলেদের পড়াচ্ছে। এই ভদ্রলোককে দেখে একটু লজ্জায় পরেছিলাম। আমাকে ভদ্রলোক নিজেই ম্যাচটা খুঁজে দিল। রাস্তায় রিকসার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। দেখলাম ভদ্রলোক সিঁড়ি দিয়ে নেমে নিচে আসছে।
আমি সরে দাঁড়ালাম যাতে
ভদ্রলোক আমাকে দেখতে না পায়। একি কথা, একটু বাঁকা চোখে দেখলাম আমাকে ড্যাবড্যাব করে দেখছে। গালি দিলাম মনে মনে এত বাজে লোক আমার জীবনে দেখি নাই। সারাদিন অফিসে কাজ করার পর সন্ধ্যায় বাসার দরজায় দেখি ভদ্রলোক রিকসাওয়ালাকে ভাড়া দিচ্ছে। পাশ কাটিয়ে গেলাম খেয়াল করলাম হাতে বাজার করা ব্যাগ। বুঝে নিলাম অফিস সেরে বাজার করে এসেছে।
রাতে ঘুম আসছিল না। সারাক্ষণ আমার কাজ, খাওয়া, অফিস সব সময় আমার সেই না বলা চিন্তাটা থাকে। সেই চিন্তায় ঘুম যখন আসছিল না বিছানা থেকে উঠে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে নিচের ঢাকাকে দেখছিলাম। কি দেখছি জানি না। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে হুশ হল পিঠে একটা স্পর্শ পেয়ে।
ঘুরে দেখি পিছনে বাড়িওয়ালা দূরে দাঁড়িয়ে, বলল দুঃখিত। আমি কিছু না বলে রুমে চলে এলাম। অবাক হলাম মানুষ ও এমন হয়। মনে মনে হাসি পায় আমার যে চেহারা ভূতের মত এই চেহারা দেখার জন্য এমন করতে হয়।
পরের দিন সকালে সিদ্ধান্ত নিলাম অফিস করে এখানে আর আসব না, সোজা বাস ধরে বাড়ি চলে যাব। নিচে নেমে লন্ডি দোকান থেকে বোরখা নিব দাঁড়ালাম ঘুরে দেখি পাশে ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে।
গা-টা জ্বলে গেল। উনি নিজেই বললেন আপনার ঢাকার কাজ শেষ? হ্যাঁ। আজি রেস্ট নিয়ে কাল যাবেন। আমি আর কথা না বাড়িয়ে চলে এলাম কাকার রুমে। কাকী এগিয়ে দিতে এল নিচে, রিকসার উঠে কাকীকে বললাম আপনার বাড়িওয়ালাকে সালাম দিবেন। তোমার সাথে কথা হলে কখন সকালে লন্ড্রির দোকানে। তোমাকে চিনলো? হ্যাঁ আমার একদম বাজে লেগেছে উনার সাথে কথা বলতে। ড্যাবড্যাব করে দেখে। আর হাসে আগ বাড়িয়ে কথা বলে।
তাই আমাকে উত্তর দিতে হয়েছিল। কাকী একটু গম্ভীর হয়ে বলল উনিতো অন্ধ। কিছুই দেখে না। কি বলেন চমকে উঠলাম। তবে যে আমার সাথে কথা বলল। ঐ এক ব্যাপারে। উনি সব দেখেন অন্তর দৃষ্টি দিয়ে। মনে হচ্ছে আরও একটা দিন থেকে যাই।
রেষ্ট নিয়ে যাই ভদ্রলোক নিজে থেকে বললেন আবার ভাবলাম আমিতো একেবারে বিদায় নিয়ে এলাম আবার ফিরি কি করে সেখানে। আমিও না হয় অন্তর দৃষ্টি দিয়ে ভদ্রলোকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো। আর একটা জ্যোৎস্নারাত দেখব এক সাথে ঐ তৃতীয় নয়ন দিয়ে।
গল্প সম্পর্কে
সাধারণত আমরা আমাদের দুটি চোখ দিয়ে বাইরের জগতকে দেখি। কিন্তু তৃতীয় নয়নকে বলা হয় অন্তর্দৃষ্টির চোখ । এটি এমন এক চেতনার স্তর যা সাধারণ দৃষ্টির অতীত বিষয়গুলো অনুভব করতে সাহায্য করে। আধ্যাত্মিক মতে, এটি উচ্চতর জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং দিব্যদৃষ্টির প্রতীক।
তৃতীয় নয়ন আসলে আমাদের ভেতরের সেই সুপ্ত ক্ষমতা, যা আমাদের সাধারণ সীমাবদ্ধতার বাইরে নিয়ে যায়। এটি কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং মানুষের আত্মিক ও মানসিক বিকাশের একটি পথ। সঠিক সাধনা এবং জীবনবোধের মাধ্যমে যে কেউ তার এই অন্তর্দৃষ্টিকে জাগ্রত করে জীবনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারেন।
আমাদের সম্পর্কে
স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।
আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।
এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।
আমার লক্ষ্য
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।
3 thoughts on “তৃতীয় নয়ন”