এমরান মাহমুদ প্রত্যয়
আজ এত বছর পর নিজের প্রাক্তন স্বামীকে নিজের বৃদ্ধাশ্রমে দেখে চমকে উঠলো ঐশি । কিছু বুঝতে পারছে না। এতো বছর পর মানুষটাকে এভাবে দেখতে হবে তা একদম অকল্পনীয় ছিলো।লোকটা একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।
দেখতে বড্ড অসহায় লাগছে। নিজের মধ্যে সংকোচ করছে তার সামনে যাওয়া ঠিক হবে কি না।এত বছর পর হয়তো চিনতেই পারবে না
অনেকটা জড়তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত তার সামনে গিয়ে দাড়ালাম।
সামনে দাঁড়ানোর পরও লোকটার কোনো ভাবের পরিবর্তন হলো না, বুঝতে অসুবিধা হলোনা, যে সামনে থাকা মানুষটা চোখে দেখতে পায় না।
ঐশী বাবা মা’র খুব আদরের সন্তান। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সে এখন কলেজে। মেয়ে বড় হয়েছে, অন্যের ঘরে দিতে হবে এটিই নিয়ম এই সমাজের।মানুষ কত বৈচিত্র্য জীবনের এই যোগ বিয়োগে।
গ্রামের মেঠোপথ আজ কাল পিচের আধুনিকতায় সমুজ্জ্বল শহরমুখী উচ্ছ্বসিত জীবনের রুপরেখা।আশরাফ খান মেয়েকে বড় করেছেন মানবিক আর উদারতায়।বাস্তবতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে জানে ঐশী।
বাবা মা’র বা পরিবারের বাহিরের কোন দিনই যায়নি কোন কারণে,তার উদারতা তার বিচক্ষণতা ও মৌনতা ঐশীর মন দৃঢ় বিশ্বাসে অটুট রেখেছে প্রতিনিয়ত।
পাত্র এসেছে ঐশীকে দেখতে। অপছন্দ হবার কোন কারণ নেই, রুপ,গুণ আর বুদ্ধিমত্তায় সবার মন জয় করতে পারে খুব সহজে।পরিবার ও ঐশীর মতেই বিয়ে হয় সজলের সাথে।ঐশী আর সজলের সংসারে সুখের কোন কমতি ছিল না।
শ্বশুর শ্বাশুড়ি,ননদ দেবর নিয়ে খুব সুখেই যাচ্ছিল ওদের জীবন নবীন বাতাসে পাল তুলা নৌকার মত।দেখতে দেখতে কেটে যায় জীবন থেকে বেশ কয়েকটি বছর।
বেশ ভালোই চলছিলো সংসার।যৌথ হওয়াতে পুরো পরিবার একসাথে থাকা।শান্ত স্বভাবের হওয়াতে সবার সাথে ঐশীর সম্পর্ক খুব ভালোই ছিলো।
সুখ শান্তিময় জীবন যাপনে এক সময় একটু হলেও ভাটা পড়ে,কারণে অকারণে। পরিবারেরও অনেক আশা থাকে,থাকে স্বপ্ন।পাঁচ বছরের সুখময় ঐশীর সংসারে সাদা শুভ্র আকাশে হঠাৎ কালমেঘ জমেছে।
ঐশী একটু হলেও বুঝতে পারছে।শুনছে পরিবারের নানা জনের নানা কটূক্তি মূলক কথা। সজল ও কেমন হয়ে গেছে আজকাল।কেমন যেন দুরত্ব দুরত্ব ভাব।ঐশী ভাবে তাঁর কি দোষ।
হয়তো আল্লাহ ভাগ্য এই লিখেছিল।সবাই তো সন্তানের আশা করে সজল করলে দোষ কোথায়? আমার তো নিজের সমস্যা। বাবা ডাক পৃথিবীর সব পিতা মাতাই শুনতে চাই। সজলের অমত থাকলেও বাবা মা’র সাফ জবাব তুকে আবার বিয়ে করতেই হবে।
আমরা নাতি-নাতনি মুখ দেখে মরতে চাই। ঐশীর জন্য একটু খারাপ লাগলেও সজল ও তাই চাচ্ছে। ঐশী ভাবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চলার পথের পথ পরিদর্শক যদি অন্য রকম হয়ে যায়, সেই সংসারে আর যা-ই থাক সুখ শান্তি থাকে না।
রাশি রাশি সুখ যখন দুঃখে পরিনত হয় আর দুঃখের কারণ যদি একান্ত নিজের আপনজন হয় তখন জীবন থেকে পালাতে ইচ্ছে করে, মৃত্যুই যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে।
শ্বশুর বাড়িতে থাকাটা যখন অনেকটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে গেলো তখন ঠিক করলাম কিছুদিন বাপের বাড়িতে গিয়ে উঠবো এতে হয়তো পরিবেশ কিছুটা শান্ত হবে।যেদিন রাতে সজলকে বাপের বাড়ির কথা জানালাম, সেদিন রাতে তার কোনো উত্তর পেলামনা।
কিন্তু আগেরকার সময়ে বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বল্লে তার মুখটা কালো হয়ে যেতো,এবারে তার মধ্যে তেমন পরিবর্তন হলোনা।
বাপেরবড়ি যাওয়ার প্রায় কয়েকদিন বাদে একটা কুরিয়ার এলো যাতে লেখা আছে সজলের বিয়ের কথা আর আমাদের ডিভোর্সের পেপার।চিঠি আর ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিয়েই ঐশীর আর বুঝতে বাকি রইলো না পুরে বিষয়টা বহুদিন আগে থেকে পরিকল্পিত।
শুধু বাড়ী থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় ছিলো।যার জন্য এতো কষ্ট আর অপমান সয়য়ে ছিলো সেই যখন পাশকেটে চলে গেলো তখন নিজেকে পুরো একা মনে হলো।ঐশী একবার ভেবেছিল ঐ বাড়ি গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন ও প্রতিবাদ করবে কিন্তু মন সাই দেয়নি।
কারণ যার জন্য ও বাড়িতে যাবে সেই তো তাকে চাই না তাই গিয়ে লাভ কি? ডিভোর্স পেপারে সাইন করে পাঠিয়ে দিলো।ডিভোর্স পেপার পাঠানোর পর তার সাথে আর কখনো দেখা বা যোগাযোগ হয়নি কারণ ঐশী নিজেই সবটা বন্ধ করে দিয়েছিলো।
প্রতি ক্ষণে প্রতি মূহুর্তে মনে হতো ঐশীর নিঃসন্তান, স্বামী ত্যাগী মানুষের পৃথিবীতে না থাকা শ্রেয় কিন্তু একটা সময় বুঝতে পারলো নিজের জন্য না হলেও অন্যের জন্য বাঁচতে হবে।নিজের মতো ভুক্তভোগী নারীদের জন্য বাঁচতে হবে।
বাঁচতে হবে ওসব শিশুদের জন্য যারা পরিচয়হীন হয়ে বেঁচে আছে এ পৃথিবীতে। পেছনে ফেলে আসা মানুষগুলোর প্রতি কোনো অভিযোগ রইলোনা। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো, সমাজের তাদের জন্য কাজ করবে যারা নিজেদের ত্রুটির জন্য পরিবার পরিজনের কাছে আঘাতপ্রাপ্ত।
অতীতকে ভুলে, কঠোর পরিশ্রম ও মেধায় একদিন নিজেকে নতুন রুপে প্রতিষ্ঠিত করলো।স্থাপিত করলো এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, বিধবা নারীদের জন্য বিভিন্ন কাজের ব্যবস্থা ।
ঐশীর জানে বুঝে তাঁর মতো যে সকল নারী এ সমাজে অবহেলিত, মানসিক আঘাতে জর্জরিত তাদের জন্য কিছু করতে পারাটাকে নিজের জন্য অনেক সৌভাগ্যের মনে হয়।
অনেক অসুস্থ আর অস্বাভাবিক লাগছে সজলকে ।ঐশী ভাবেআমি না হয় তার আপন ছিলাম না তাই আমাকে ছাড়তে তার হৃদয় কাঁপেনি তাহলে যারা তার আপন ছিলো তারা কেনো তাকে এখানে রেখে গেলো?
একজন সার্ভেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, ওনাকে এখানে কে এনেছে? উত্তরে সে জানায়, সন্তানেরা সবাই চাকুরী করে এক মেয়ে থাকে বিদেশে কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না তাই আশ্রমে রেখে গিয়েছে।
অতীতকে মনে করতে না চাইলে ও কেন অতীত পিছু ছাড়ে না?আমার ভাগ্য কেন এমন চোখের কোণ দুটি ভেঁজা লাগতেই নিজেকে সামলে নিলো ঐশী।
হৃদয়ে একটি দীর্ঘশ্বাস চেপে, একসময় নিঃসন্তান হওয়ায় সজল আমাকে ছেড়েছিলো আর আজ সে সন্তানরাই তাকে বৃদ্ধাশ্রমে ছেড়ে গেলো।
হয়তো এটাই বিধির বিধান।
বৃদ্ধাশ্রম সম্পর্কে
🏡 বৃদ্ধাশ্রম কী এবং কেন প্রয়োজন?
বৃদ্ধাশ্রমগুলো প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য থাকা, চিকিৎসা, সেবা ও সঙ্গ দেওয়ার ব্যবস্থা করে এমন প্রতিষ্ঠান। পরিবার-পরিচর্যার অভাবে কিংবা চিকিৎসা ও সামাজিক সঙ্গের প্রয়োজন মেটাতে অনেক পরিবারের বুড়ো সদস্যদের এখানে রাখা হয়।
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রম
সরকারি বিভাগে:
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ৬টি সরকারি বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে
- এদের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় (যেমন ফারিদপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ইত্যাদি) পরিচালিত হয়
বেসরকারি/এনজিও ভিত্তিতে পরিচালিত:
- Priyojon Nibas: ঢাকায় অবস্থিত, উন্নত সুযোগ–সুবিধা, পুষ্টিকর খাবার এবং ২৪/৭ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে
- Japan Bangladesh Friendship Retirement Homes (JBFRH): জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে চালিত, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তা প্রদান করে
- Dhaka Evergreen Retirement Homes: উত্তরা, ধাকায় ৫-তারা মানের সুবিধাসহ বিশ্রাম কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে ।
- Subarta Trust: প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, স্বল্প ও মধ্য আয়বাড়িতে ।
- এছাড়াও Probin Nibash BD, APON NIBAS OLD HOME ইত্যাদি রয়েছে
সুবিধা ও পরিষেবা সমূহ
| সুবিধা/পরিষেবা | বিবরণ |
|---|---|
| বাসস্থান ও নিরাপত্তা | ব্যক্তিগত বা সাধারণ কক্ষ, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ |
| চিকিৎসা ও যত্ন | নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, প্রয়োজনমতো ডাক্তার ও নার্সিং সেবা |
| খাবার ও পুষ্টি | পুষ্টিকর খাবার, ডায়েট অনুযায়ী সেবা |
| সামাজিক ও বিনোদন | বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সাংস্কৃতিক বা শখের কার্যক্রম |
| মানসিক সমর্থন | অনুভব ও মানসিকভাবে মানিয়ে নিতে সহায়তা |
আমাদের সম্পর্কে
স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।
আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।
এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।
আমার লক্ষ্য
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।
aponar golpo khub valo legech……..
ak kothai osadaron. bidhachorom niye likha amon golpo …….
ak rokom jion diye bastob ke tule dora hoycha.