আ.ব.ম রবিউল ইসলাম (রবীন)
নিতান্তই ছা পোষা মানুষ আমরা অর্থাৎ লেখকরা। একজন লেখকের দৌড় তার লেখা পর্যান্ত। চারিদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত, আতঙ্কিত, অপ্রত্যাশিত, অন্যায়মূলক,অবিবেচিত,অসুন্দর, অসমর্থিত সব ঘটনা দেখে দম বন্ধ হয়ে আসে। কীভাবে প্রতিবাদ করবো তাও বুঝতে পারি না, তখন লিখতে বসি। মনকে এই বলে সান্ত্বনা দেই,এতটুকু আমার সাধ্য।
১৯৪৭ সালে আমার একটি অসমাপ্ত ও বিকৃত স্বাধীনতা পেয়েছিলাম । মানুষ বিস্ময়ে লক্ষ্য করলো ভাগটা হয়েছিল দ্বী-জাতিতত্ব বা ধর্মের ভিত্তিতে। পরবর্তীতে হিন্দু -মুসলিম বিভেদের আগুন পানি ঢেলে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়েছিল ।
তারপরের ইতিহাস সংগ্রামের, আন্দোলনের, মুক্তিযুদ্ধের। পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে রানার আপ ছাড়াই বাঙালীদের ঐতিহাসিক বিজয়। বিজয়ী বাংলাদেশের বিশ্বমঞ্চে প্রবেশ।
ষাট ও সওরের দশকে রাজনীতি বিদরা শোষণমুক্ত সমজ ব্যবস্হার কথা বলতেন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও ছিল এটি। এখন কার রাজনীতি বিদরা শুধু মধ্যআয়ের লক্ষ্যের কথা বলে পবিএ সংবিধান কাটা ছেড়া করার কারণে এখানে মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি,সমাজতন্ত্রের মূলভাব বদলে যায়। আমরা বাঙালি থেকে বাংলাদেশী হয়ে যাই।
লম্বা সিলেবাস,নানারুপ পরিবেশের মধ্যে আমাদের অনাগত শিশুরা বেড়ে উঠছে। এখানে প্রাথমিক শিক্ষাকে ১১ভাগে বিভক্ত করে সামাজিক বিভাজন তৈরি করা হয়েছে। তরুণরা আজ অর্থ ও ক্যারিয়ারের মোহে মশগুল।
যদিও এই তরুণরাই পারে অনেক সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে। রোদ -বৃষ্টি গায়ে-মাথায় মেখে কেবল কৃষকদের প্রত্যক্ষ মেহনতে যে ফসল ফলে,
সেই ফসলের উৎপাদন খরচ বাজার থেকে ঘরে ফেরত না আনতে পারার যাতনায় তাদের নৈরাস্য ঘিরে ধরে। পোষাক শিল্পের অনেক শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা রানা প্লাজার ধ্বংস সস্তুপে চাপা পড়ে যায়।
সহস্রাধিক শ্রমিক হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রানাদের দ্রুত বিচার আইনে বিচার হয় না। যারা বিবেক, দেশের কিংবা সমাজের সেসব সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুদ্ধি জীবী বা বুদ্ধি বৃত্তিক চর্চার সৃজনশীল মানুষেরা কোথায় মৌনতার দাস্তখত দিয়ে এসেছেন? এই নিদানকালে তাঁদের বলার বা করার কিছুই কি নেই৷
সাধারণ মানুষ অসহায় একথা যেমন সত্য, কিন্তু যুগে যুগে এই সাধারণ মানুষগুলোই জাতির চরম দুঃসময়ে সংঘবদ্ধ হয়,অকাতরে প্রাণ দেয়। কান পেতে শুনুন, ভেতরে ভেতরে ধুমায়িত হচ্ছে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ।
নিয়তির চেয়ে ও ভয়ঙ্কর হল মানুষের সম্নিলিত শক্তি। এই সম্নিলিত শক্তির প্রদর্শণ আমরা দেখেছি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসার্টে। মানুষ জেগে উঠেছিল বলে আড়িয়াল খাঁ বিলে সরকার বিমানবন্দর না করে সরে এসেছিল। ভদ্র লোকী পোষাকের জোরে নয়,
মাটির গর্তে গণমানুষের ব্যাপক অংশ গ্রহণের ফলশ্রুতিতে এদেশে পাকিস্তানী বাহিনী মহান মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজিত হয়েছিল। দিনাজপুরে ভোর রাতে ধর্ষিতা ইয়াসমিনের পক্ষে ব্যাপক মানুষ জেগে উঠেছিল বলে সেই ঘটনায় তিন ধর্ষকের বিচার হয়েছিল।
কাল মার্কস, লেলিন, চেগুয়েভরা সহ সারা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে দেখা গেছে মাটি ভর্তি গণ মানুষদের। তাই সবাইকে বুক বেঁধে আবার দাঁড়াতে হবে।
সমাজ, রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি আলোকপাত জরুরী। পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বময় এখন বাজার অর্থনীতির জয় জয়কার। এই ব্যবস্হায় ধনী দেশগুলোর পোয়াবারে,কিন্তু বাংলাদেশের মত গরীব প্রান্তস্হিত দেশের অবস্থা হয়ে উঠেছে এাহি মধুসূদন। শুধু বাজারের স্বতঃস্ফূর্ত শক্তির ওপর ভিত্তি করে পরস্পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হলে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে পরস্পর নির্ভরতা অসম্ভব হয়ে উঠতে বাধ্য।
বড় শক্তির ওপর ছোট শক্তির নির্ভরশীলতা হবে নির্ধারক। এটা বাজার অর্থনীতির অলঙ্ঘনীয় নিয়ম। তাই যা হওয়ার তাই হচ্ছে।
বাজার অর্থনীতি জম্ন দিয়েছে বাজার রাজনীতির। লুটপাটের অর্থনীতি জম্ন দিয়েছে লুটপাটের রাজনীতির। তাই লুটপাটের অর্থনীতি সমাজে প্রতিনিয়ত পুনরুৎপাদন করছে সন্ত্রাস, দুর্বৃও,অপশক্তির ভিওিকে ।
রাজনীতির বাণিজ্যিকী করণের সঙ্গে সঙ্গে চলছে তার দুর্বৃওায়ন। রাজনীতি ও সমাজ জীবনে বাজার অর্থনীতি যে কুৎসিত বাণিজ্যিকী করণে,বেপরোয়া লুটপাট ও নিয়ন্ত্রণহীন দুর্বৃওায়নের জম্ন দিয়েছে।
তাতে জাতির অস্তিত্ব আজ বিপন্ন প্রায় । এসব উওোরণে দরকার ব্যাপক মৌলিক পরিবর্তন। এক অপ্রতিরোধ্য গণজাগরণের শক্তিকে উম্নোচিত করে ৭১-এর মতো আবার একটা সর্বাত্নক ঝাঁকুনি দিয়ে উৎপাদন করতে হবে লুটপাট তন্ত্রের দেশি-বিদেশি ভীত।
এই বিপদজ্জনক পথ চলা থামাতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ, জাতিগত সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রগতিশীল সমস্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দ্রুত তম সময়ে।
এ দেশকে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের দেশ হিসাবে, প্রতিটি নর-নারীর জন্য নিরাপদ আবাস হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে না পারলে এমান্বয়ে বাংলাদেশ শুধু এক ভাষা, এক জাতি আর এক ধর্মের দেশে পরিণত হবে তা নয়,
এদেশ হয়ে উঠবে লুটেরা, প্রতারক আর পুঁজিবাদীদের। শ্রমজীবী, মেহনতি আর কৃষি জীবীরা শ্রমদাস হয়ে লুটেরা শাসক শ্রেণির হাতে নিস্পোষিত হতে থাকবে।
সবশেষে যা বলা যায়, মানুষ দেখতে চায় নির্মোহ অবস্হায় থেকে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার। দেখতে চায় বিলম্বে হলেও রাজনীতিতে শিকড় গড়ে বসা লুটেরা,লুম্পেনদের মুলোৎপাটন। অবসান চায় রাজনীতির দুবিওার্য়ন ।
গল্প সম্পর্কে
“বুক বেঁধে তুই দাড়াঁ দেখি”
এই কথাটি সাধারণত সাহস, ধৈর্য বা দৃঢ়তা প্রদর্শনের জন্য বলা হয়।
এটি এমন একটি উক্তি যা মানুষকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াতে বা ভয় কাটিয়ে অগ্রসর হতে অনুপ্রাণিত করে।
জীবনের সংগ্রাম: এই কথাটি প্রায়ই জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রস্তুত করার ইঙ্গিত দেয়,
যেমন:”ভয় পেলে চলবে না, বুক বেঁধে সামনে এগোতে হবে!
প্রেরণাদায়ক উক্তি:”বুক বেঁধে দাঁড়ালে জয় একদিন আসবেই।
ভাগ্য তো সাহসীদেরই সহায় হয়, বুক বাঁধো আর পা বাড়াও !
আমাদের সম্পর্কে
স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।
আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।
এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।
আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।