জি এফ অভি
এক দিন বিকালে প্রচন্ড ঝড় হচ্ছিলো। এমন সময় কোথায় থেকে যেন একটি কবুতর এসে আমাদের বাসায় ছাদের এক কোনে আশ্রয় নিয়েছিলো। ঝড় শেষ হলে আমি আর আপু সাদে গেলে দেখতে পাই কি সুন্দর একটি কবুতর।
বৃষ্টিতে ভেজা কবুতরটি নড়াচড়া করছে না বলে আপু সহজেই কবুতরটিকে ধরে ফেলল ছাদ থেকে নিচে এনে আপু কবুতরটির সাড়া শরীর মুছে দিলো। আমি খাবার আনতে গেলাম। অনেক গুলো সরিষা এনে কবুতরটিকে খেতে দিলাম।
দুইদিন ধরে দুজনে কবুতরটির অনেক যত্ন নিলাম। আপু সহজেই কবুতরটির মায়ায় পড়ে গেল। পরে দিন সকালে হঠাৎ কবুতরটি কোথায় যেন উড়ে চলে গেল।
কবুতরটি আর আসছেনা বলে আপু ভিষন কান্নাকাটি করতে লাগলো। মনের কষ্টে আপু সারাদিন মুখে কিছু দিলোনা। সাদে গিয়ে শুধু আকাশের দিকে চেয়ে রইল।
বাসার সবাই আপুকে বুঝাতে লাগল,কিন্তু আপুর কান্না আর থামছে না। আপুর সাথে আমার মন ও ভিষন খারাপ হয়ে গেলো। মনের কষ্টে আপু রাতে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ল।
পরেদিন সকালে আপু ঘুম থেকে উঠেই কবুতরের খোঁজে সাদে গেল। ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে তাকাতেই কোথায় থেকে যেন সেই কবুতরটি উড়ে এসে পড়ল।
একটু কাছে যেতেই আরো বেশ কয়েকটি কবুতর উড়ে আসতে লাগলো। কবুতরগুলো দেখে আপু মনের আনন্দ আর ধরে রাখতে পারল না।
আপু আমার নাম ধরে ডাকতে লাগল। আতিক বাবু, আতিক বাবু খাবার নিয়ে আসো। অনেকগুলো কবুতর এসেছে। আমি নিচ থেকে অনেক গুলো খাবার এনে ছিটিয়ে দিলাম।
একটু পরেই দিকবেদিক থেকে ঝাঁক বেঁধে অনেকগুলো কবুতর আকাশ থেকে পড়তে লাগল। ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসা একটি কবুতর এসে আপুর হাতের উপর বসল।
আপু পাখা তুলে দেখল সেই আঘাত লাগা কবুতর এটি। আপু কবুতরটিকে আদর করে আকাশের পানে ছুড়ে দিলো। প্রতিদিন কোথায় থেকে যেন নতুন নতুন কবুতর আসতে লাগলো।
সেই থেকে আমাদের বাসায় এখন অনেক কবুতর। আর কবুতরের ছানার কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে সারা বাড়ি। আপু এখন শ্বশুর বাড়িতে, তাই কবুতর গুলোকে আগের মতো আর আদর করতে পারে না।
তাই প্রতি দিন আপু বার বার আমাকে ফোন করে বলে, আতিক বাবু কেমন আছে আমাদের সুখের পায়রাগুলো! কেমন আছে আমাদের আদরের ধন। তুমি কবুতর গুলোকে ঠিকমতো খেতে দিস তো? ঐগুলোর খোঁজ রাখিস সব সময় ।
গল্প সম্পর্কে
প্রকৃতি যতটা উন্মত্ত, মন যেন ততটাই নরম হয়ে পড়ে। বাতাস যখন গাছের ডাল ছিঁড়ে ফেলে, জানালার কাঁচ কাঁপতে থাকে, মনে হয়—
কিছু না বলা কথা যেন বুকে জমে আছে বহুদিন ধরে। এই দিনগুলোতে কেমন যেন পুরনো স্মৃতি হঠাৎ খুব কাছে চলে আসে।
ঝড়ের শব্দের ফাঁকে ফাঁকে শোনা যায় মনের গোপন কথাগুলো। কোনো এক সন্ধ্যায় না বলা ভালোবাসা, কাউকে বলা হয়ে ওঠেনি এমন ক্ষমা চাওয়া,
কিংবা হারিয়ে যাওয়া কারো জন্য চুপিচুপি চোখ ভিজে ওঠা—সব যেন আজ ফিরে আসে।
ঝড়ের দিনে মানুষ নিজেকে আর লুকিয়ে রাখতে পারে না।এই দিনগুলো আমাদের শেখায়—শক্তিশালী হতেই হয়, তবে কোমলতাও দরকার।
আমাদের সম্পর্কে
স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।
আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।
এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।
আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।