অতঃপর ভালোবাসা

আজ অমিত আর লাবণ্যর বেড়াতে যাবার কথা। বিবাহিত জীবনের অনেকগুলো দিন পার করেছে তারা। পার করেছে জীবনের অন্তিম মুহুর্তগুলো। আজ তারা সারাদিন ঘুরে বেড়াবে মনের আনন্দে। কাল রাতে দু’জনে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জীবনের কিছু স্বপ্নময় অনুভূতির সকল সুখ ছিনিয়ে নিয়ে এই জগত সংসারে মিশে থাকবে। উপভোগ করবে আজকের দিনটাকে। আজ হারিয়ে যাবে দুজন সুখের সাগরে দূর থেকে দূরে ভালবাসার আবেসে। থাকবে না কোন তিক্ততা, থাকবে না কোন রাগ বা অভিমানের সুর।

আজ খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে লাবণ্যর। বিশেষ দিন। বিশেষ সব মুহুর্ত উপভোগ করতে চায় ওরা কোন রকম ঝামেলা ছাড়া। এখনো ঘুমের মধ্যে, আলতো ঠান্ডা পানির পরশে ঘুম ভাঙ্গে অমিতের। চুলের পানি ছিটিয়ে দেয় অমিতের চোখে মুখে। মুচকি একটি হাসি দিয়ে অমিত জড়িয়ে ধরে আদরের ছলে। এই ছাড়ো! ছাড়ো বলছি- আরফি জেগে যাবে?

না! ছাড়বো না, একটি আলতো পরশ একে দেয় লাবণ্যর ঠোঁটে।

জোর করে ছাড়িয়ে নেয় লাবণ্য! বলে আজকের দিনের কথা ভুলে গেছ?

না! একটুও না।

সরল হাসি মাখা মুখে সকালের শুভ্রতায় সদ্য ফোঁটা লাল গোলাপে ছোট্ট একটি চুমু দিয়ে এগিয়ে দেয় অমিতের দিকে। থ্যাংকস বলে গোলাপের ঘ্রাণটা প্রাণ ভরে উপভোগ করে অমিত। আজ ২০/১১ ওদের তৃতীয়তম বিবাহ বার্ষিকী।

আজ অনেক সেজেছে লাবণ্য,অনেক সুন্দর লাগছে তাকে। ভালোবাসার উত্তাপে উৎদিপ্ত নিয়ম কল্পনা আঁকে হৃদয়ে। সুখের সব অনুভূতি আর অনুভবে হৃদয় একাকার।

জীবনের যোগ-বিয়োগে অনেক সময় কেটে যায়। সারা দিন ঘুরে ক্লান্ত,রাতের আঁধার ঘনিয়ে এসেছে। অনেকে ফোন করেছে। দিয়েছে এস.এম.এস সুখ কামনা করেছে জীবনের। অমিত বাজার থেকে ফিরেনি এখনো। একটু ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে বসে লাবণ্য। নিজে দেখে নিজেকে, হাসে মনে মনে। অনেক খুশি আজ সে। এ সুখ সারা জীবন পেতে চায় লাবণ্য।

হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠে- হ্যালো বলতেই মেনি মেনি রিটার্ন অফ দ্যা ম্যারেজডে, ”তোমার জীবনটা সুখে ভরে যাক এই দিনের মত। রঙ্গিন প্রজাপতির মত রঙ্গিন হোক তোমার জীবন। কেটে যাক সকল দুঃখ-কষ্ট, আর হতাশা-ভাল থেকো। বলেই লাইনটা কেটে দেয়। মুগ্ধ হয়, ভালো লাগে কথাগুলো।

কিন্তু লাবণ্যর ভাবে এ কথা গুলো তার কাছে খুব পরিচিত।খুব পরিচিত কন্ঠস্বর যেন অনেক দিনের চেনা।কিন্তু সে কি ভাবে ফোন নম্বর পাবে….?সন্দেহটা তীব্র হয়।হাতে ফোন নিয়ে সেই অপরিচিত নম্বরে ফোন করতেই ফোনটি বন্ধ পায় লাবণ্য।সন্দেহটা তীব্র হয় মুহূর্তে। হতাশা আর বিষন্নতায় ভরে যায় লাবণ্যর হৃদয় ও মন, কাল মেঘ জমে ভাবে অনেক কিছু খুঁজে পায় না এ ভাবনার শেষ অংশ।

রাত ভারি হয়। দু’নয়নে ঘুম নেই লাবণ্যর। একটা ফোন জীবনটা এমন এলোমেলো করতে পারে ভাবেনি আজ এত দিন পর । কে? সে! আর কে হতে পারে!লাবণ্য ভাবে আমার জীবনের খবর শুধু একজন জানতো সে তো অনেক আগে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। ও তো জানে-ই না আমি কেমন আছি? কোথায় আছি? আর জানার কথাও তো না।

তবে সে কে? না অতীতে ফিরতে চাই না লাবণ্য। চাই না পুরোনো কথা ভাবতে। চাই না একটা লম্পট, বদমাশ ছেলের কথা মনে করতে। কিন্তু আজ এত দিন পর তার কথা মনে পড়ছে কেন? সে তো নিজেই পর করে দিয়েছে। অতীত সব অতীত!!!

সেই দিন থেকে একটা রাতের জন্যেও ঘুমাতে পারে নি লাবণ্য। শুধু সেই কথাগুলো প্রতিধ্বনি হয়ে বেজেছে তার কানে। এক মিনিটের জন্যেও মনকে স্থির করতে পারে নি। হ্যাঁ, প্রলয়-ই হবে সে ছাড়া কেউ হতে পারে না। মনকে বুঝাতে পারে নি।অমিত জানতে চেয়েছিল মন খারাপের কারণ- বলতে পারে নি আর কী করে বলবে। রাজ্যের কষ্ট যে এখন তার বুকে।

লাবণ্য বলে, আমি একটু আম্মুদের ওখানে যেতে চাই। ঠিক আছে।

লাবণ্য মাকে শান্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে? সত্যি একটা কথা বলবে। মেয়ের এমন কথাতে একটু অবাক হন তিনি। আর কি বা বলবে আজ এত দিন পর। না? হ্যাঁ, বলো- প্রলয় কী তোমাকে ফোন দেয় মা।

আরো পড়ুন সাইবেরিয়ার ডাইনি

মেয়ের কাছে মিথ্যে বলতে পারে না। হ্যাঁ, তো কী হয়েছে? কেন? একটু বিচলিত হয় লাবণ্যর মা। রাগ করে রুম থেকে বেরিয়ে যায় লাবণ্য,অনেকটা অভিমান করে। সন্দেহটা দৃঢ় হয় তার যেটা সে মনে করেছিল।

সেই দিন-ই ফোন দেয় প্রলয়। লাবণ্যের অগচরে অনেক কথা বলে প্রলয় লাবন্যের মায়ের সাথে। যা হবার হয়েছে। তুমি এসব ভুলে যাও। নতুন করে জীবনটা সাজিয়ে নাও। তুমি না ভালোবাস লাবণ্যকে তাহলে ওর সুখ নষ্ট করছো কেন? তুমি না ওর সুখ চাও।

তুমি কী চাও তোমার জন্যে আমার মেয়েটা অসুখী হোক- আরো অনেক কথা। তাদের অগচরে কিছু কথা শুনে ফেলে লাবণ্য। প্রলয় বলছে আমি যে আজও তাকে ভালোবাসি মা ”কী করে ভুলবো”। এই কথাটি,লাবণ্যর বুকে বিষাক্ত তীরের মত বিঁধে। তাহলে কিছু………? ভাবতে পারে না লাবণ্য।

লাবণ্য আজ এমন লাগছে কেন? কেন? তার কান্না পাচ্ছে। কী জন্যে কাঁদবে সে। যে কষ্ট দিতে জানে তার জন্য কষ্ট কীসের। আজ অনেক কেঁদেছে লাবণ্য এই জীবন যুদ্ধে। ভেবেছিল প্রলয় সংসারী হয়েছে। কিন্তু এ কী শুনলো আজ সে। তাহলে …….? না আর ভাবতে পারে না লাবণ্য । একটা প্রতারক ছেলের জন্য কীসের ভাবনা। ও কী?

করে বুঝবে ভালবাসার মানে। লাবণ্য জানে বুঝে হৃদয় ভাঙ্গার যন্ত্রণা কী? সব ভুলে ভাল থাকতে চেয়েছিল লাবণ্য । একটু হলেও স্বামীর আদর ভালবাসায় ভুলে গিয়েছিল সব অতীতের দুঃখ, কষ্ট আর যন্ত্রনা। হঠাৎ কেন এমন হল?

না আর কোন দিনই অতীতে ফিরবে না লাবণ্য ।নিয়মের ভালোবাসায় পরাজিত লাবণ্য কি করে ঠকাবে অমিতকে। না সব ভুলে যাবে আজকের পর থেকে কারণ স্বামী সন্তান সংসার ই আজ তার পৃথিবী।

আর প্রলয়-ই বা কেন এমন করেছিল। মনে হাজারও প্রশ্ন। কোন উত্তর নেই। আর লাবণ্য যে আজ অবধি ভুলতে পারে নি প্রলয়কে? ভালবাসা যে এক স্বর্গীয় দান? দুটি মনের একনিষ্ঠ বিশ্বাস-ই যে ভালোবাসার সৃষ্টি। আজ এত দিন পর যাকে মন থেকে ভুলতে পারে নি? পারেনি ঘৃণা করতে আজ কেমন করে ভুলবে লাবণ্য।

লাবণ্য যে মনের সকল সত্ত্বা দিয়ে ভালবেসেছিল প্রলয়কে? অনেক কিছু জীবনের প্রয়োজনে ত্যাগ করতে হয়।জীবনকে ভালবেসে প্রকৃতির পরমাত্মীয় হয়ে ওঠে।লাবণ্য ভাবে প্রলয় অতীত বর্তমান নিজের স্বামী সন্তান আর সাজানো গুছানো সংসার। দুঃখবোধের জারক লাবণ্য মিশে একাকার। নষ্টালজিয়ার বিক্রিয়ায় চিরন্তন মানবিক আবেগে ভালোবাসার নতুন মাত্রায় সঞ্জীবিত হয়। অমিতের ভালবাসায় উত্তাপে হু হু করে ওঠে লাবণ্যর হৃদয় ও মন।

“অতঃপর ভালোবাসা”
একটি আবেগঘন ও সাহিত্যিক অভিব্যক্তি, যা সাধারণত বোঝায়—
দীর্ঘ অপেক্ষা, সংগ্রাম, কষ্ট, ভুল বোঝাবুঝি বা জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে অবশেষে ভালোবাসার আগমন বা উপলব্ধি।

শেষে এসে ভালোবাসা –
গল্প বা কবিতায় এটি সেই মুহূর্ত বোঝায়, যখন নানা ঘটনার পর দু’জন মানুষ একে অপরের প্রতি প্রেম স্বীকার করে বা একত্রিত হয়।

ভালোবাসার জয় –
সব বাধা, দুঃখ, বিচ্ছেদ পেরিয়ে ভালোবাসা টিকে থাকা।

উপলব্ধির মুহূর্ত –
কখনো এটি শারীরিক মিলনের গল্প নয়, বরং গভীর আবেগীয় সংযোগের চূড়ান্ত মুহূর্ত।

সাহিত্য ও কবিতায় ব্যবহার
গল্পে: নায়ক-নায়িকা বহু ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্বের পর মিলিত হলে লেখক লিখতে পারেন—“অতঃপর ভালোবাসা…”

স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।

আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।

এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।

আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *