বেকার

বেকার

জন্ম তো অভিশাপ নয়। নিষ্পাপ এক জীবন। কোন মরিচীকার পিছনে ছুটে চলা নয়। দিন যায় অতীত হয় সময়। এক এক করে হারিয়ে যায় জীবনের সীমারেখা। সবখানে দ্বিধা আর দ্বন্দের জাল বুনা। জীবন মানে পরাজয় না স্বার্থের পিছনে অবিরাম ছুটে চলা। বেলার শেষ বেলা, বেলা বয়ে যায়। জীবন খুঁজে কোন ভিন্ন জন্মের।

মানুষের জন্ম ভুল, না বড় হয়ে হয় মানুষ নামের ভিন্ন ধারা। সেই জন্ম থেকে আজ আর আজ থেকে মৃত্যু, ধরণীর তো এই একই নিয়ম। একটি স্মৃতির মাঝে বিস্তৃতির ছায়া। মনে নানা দ্বিধা সংকোচ। কল্পনা বাস্তব রূপে বিমোহিত। একটি নিষ্পাপ জীবনের মৃত্যু, নয়তো অপমৃত্যু। ‘‘বেকার’’ একটি জীবনের লম্বা পথ।

আমার ভাগ্যটা ঘোলা জলের ডোবা! যাকে আঁকড়ে ধরে বঁাচতে চাই সে-ই চলে যায় কোন দূর সীমানায়। যে পথে হঁাটতে চাই যেন খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় সেই পথটি। ‘‘বেকার’’ জীবনের অভিশাপে অভিশপ্ত আমি। আমার জীবনটাই স্টেশনে পেঁৗছে ট্রেন না পাওয়ার মত।

তাই স্মৃতির সাথে সাপ লুডু খেলতে নেই, দংশনে পড়তে হয় বার বার। এক সময় সামনে চলার ক্ষমতা থাকে না। একটি শিশু ভূমিষ্ট হয় পবিত্রভাবে। কেন? সে অপবিত্র হয়? সমাজ দূষিত বলে, না সমাজের মানুষ………?

কেন এই দেশ এই সমাজের জন্য ‘বেকার’ জীবনের অভিশাপ নিয়ে চলতে হবে। বেকার বলেই কি এত অবহেলা? মানুষ নাকি মানুষের জন্য!

শিক্ষিত হওয়া কি পাপ না অপরাধ। খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, ছিনতাই একজন বেকার-ই করতে পারে কেন? কেন সন্ত্রাসী মন মানসিকতায় সিক্ত হবে।

সুযোগসন্ধানী এই বাংলার বর্তমান রাজনীতি। ‘বেকার’ একটি মাত্র দোষ। সুযোগ খুঁজে কলম, খাতা, বইয়ের বদলে হাতিয়ার তুলে দেবার। রক্ত নিয়ে খেলা যাদের, তারা জীবন বঁাচাবে কিভাবে? শিক্ষিত ‘বেকার’ কেমন শব্দ? মেধার মূল্য নেই এই সমাজে।

দুয়ারে দুয়ারে চাকুরি ভিক্ষা। ঘুষ, মামা, খালু, চাচা, বাংলার শিক্ষিত সমাজ। কর্মসংস্থান নেই, একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘুষ দেবার ক্ষমতা নেই, নেই মামা, খালু, চাচা, আছে কি সেই জীবনের মূল্য?

বোমা বাজি করলে সন্ত্রাসী, ছিনতাই করলে ধোকা বাজী আর পরের হাতের পুতুল না হলে নিশ্চিত মৃত্যু। এ জীবনের কি মূল্য? নিষ্পাপ জীবন আর অন্ধকার কাগজ। ধ্র“ব তারার মতই সত্য সব। এখন রাত ঘুম নেই ভাবছি।

বেকার জীবনের ভাবনা। ধিক্কার বাবা-মা আর সমাজের কাছে। স্বপ্ন দেখা পাপ। চারিদিকে ঝি ঝি পোকার শব্দ। আর দূর থেকে ভেসে আসছে নিশাচর পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ। দক্ষিণে সমিরে বইছে বসন্তের হিমেল হাওয়া। ভিন্ন এক জীবন। একটি রাতের অপমৃত্যুর মতো।

কেন? জীবন এমন হবে। উত্তর খোঁজার বৃথা চেষ্টা। সময় যায় সময় আসে। কিন্তু ফিরে কি আসে আয়ু সমৃদ্ধ জীবন। এক কথায় না? দেশ, শিক্ষা স্বার্থপরতা। এত কিছুর পর দুঃখ কষ্ট হলে কার কী? প্রিয়জনও দূরে চলে যায়। এর উত্তর নেই মিমাংসা নেই।

আমি দেখেছি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে, বাস্তবতার অংশ। দেশ আপনাকে কি দিল বড় কথা নয়, আপনি দেশের জন্য কি করছেন তাই বড় না। তাহলে ঠিকই করছে তারাও খুন করছে, সন্ত্রাসী করছে। হাইস্কুলে এ্যাসেম্বলিতে জাতীয় সংগীত আর শপথ বাক্য পাঠ করতাম।

 এক রকম প্রতিজ্ঞা। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। সত্য কতটুকু ভালোবাসি আমার দেশকে?  আর  এক সাথে হাত জাগিয়ে  শপথ নিতাম আমি শপথ করছি যে মানুষের সেবাই নিজেকে...। 

কী সেবা করছি আমরা। হঁ্যা, নিজেরা বলি হচ্ছি স্বার্থের ধারায়। গরিব শব্দটা হয়তো কর“ণ- তবে তারা সুখী? জাতি, ধর্ম, বর্ণ। আর বেকার জীবনের অভিশাপ।
 জীবন স্বপ্নময় আর বিবেকে রাশি রাশি শূন্যতা। কবে আসবে সেই দিন। শৃঙ্খল মুক্ত। বঁাধা বর্জনহীন সমাজ। বিশুদ্ধ বাতাস, মুক্ত চলাচল। থাকবে না স্বার্থপরতা। থাকবে না জীবনের অভিশাপ।

বেকারত্ব একটি গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা।

এটি এমন একটি অবস্থা যখন একজন কর্মক্ষম ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ করতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না।শিক্ষা ব্যবস্থা শ্রম বাজারের চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

অনেক শিক্ষিত যুবক তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পান না। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার অভাব ও একটি বড় কারণ।

স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।

আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।

এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।

আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।

One thought on “বেকার

  1. অসাধারণ গল্প মনোমুগ্ধকর লেগেছে অসংখ্য অসংখ্য আগামীতে আর সুন্দর লিখা চাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *