এমরান মাহমুদ প্রত্যয়
দিনের একটু অবসরে কিংবা কোন মধ্যরাতে হঠাৎ মন চাইলে আইরিন যে জানালার পাশে এসে ক্লান্ত দেহ মনে উন্মুক্ত দৃষ্টিতে উদাস হয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে থাকে।
সে জানালার পাশে দঁাড়ালে সেখান থেকে বিখ্যাত কোন বাড়ী, বিশেষ কোন স্থান দেখা যায় না, যা দেখা যায় তাহলো একটি সর“ রাস্তা। তাহলে ঐ জানালা আইরিনের এত প্রিয় কেন? কি দেখতে পায় ও ওখানে দঁাড়ালে?
এ প্রশ্ন জুয়েলের! আজও আইরিন খুব সকালে জানালার পাশে গিয়ে দঁাড়িয়েছে। তখনও ভাল করে ভোরের আলো আকাশের গায়ে ফুটে ওঠেনি, আকাশ ও মাটি জুড়ে চলছিল তখন আলো ছায়ার এক অতি অপূর্ব লুকোচুরি আর দু-একটি পাখির কলতান।
জুয়েলের অগোচরে আইরিন জানালার পাশে যায়। ঠিক তেমনি আজ যখন আইরিন জানালার পাশে যায়, তখন জুয়েল ঘুমের মধ্যে ছিল। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় ঘরের চারপাশে তাকিয়ে দ্যাখে- আইরিন ঠিক ঐ জায়গাটিতে দঁাড়িয়ে আছে। জুয়েল ভাবে অনেক কিছু।
জানতে চাইবে কি এমন হয়েছে? কিন্তু না তা আর হল না। একটু চিন্তা করতেই মেয়েটি কেঁদে উঠে। ভঁ্যা ভঁ্যা করে। এত জোড়ে বাচ্চা কঁাদছে অথচ আইরিন যেন শুনতে পাচ্ছে না। কিন্তু সময় অতিবাহিত হবার পর চোখ মুছতে মুছতে ওখান থেকে সরে আসে আইরিন।
পুরো দৃশ্যটা মনোযোগ দিয়ে দ্যাখে জুয়েল। জুয়েল চিন্তিত হয়ে পড়ে। আইরিন তাহলে কঁাদছে? ওকে কি আমি কষ্টে রেখেছি?
এক শান্ত নীরব রাত যেমন হঠাৎ করে রাত জাগা পাখির ডাকে সংকিত হয়ে ওঠে ঠিক তেমন করে জুয়েলের বুকের মধ্যে দীর্ঘ তিন বছরের সঞ্চিত ঘুমান্ত ভালবাসায় সন্দেহের রেখা পাত স্পষ্ট হয়ে উঠে।
জুয়েল আইরিনকে ভালবেসে বি েয়না করলেও বিয়ে করে ভাল বেসেছে। আইরিনও স্বামী-সন্তান সংসার ভালোবাসে না এর কোন প্রমাণ এ যাবৎ খঁুজে পায়নি জুয়েল।
অথচ বহুদিন দোকান থেকে ফিরে দেখেছে, জানালার গ্রীল ধরে অন্যমনস্ক ভাবে দঁাড়িয়ে থাকে আইরিন। জুয়েল আরো দেখেছে গভীর রাতে ঘুম ছেড়ে জানালার পাশে।
কোন স্নিগ্ধ সকালে কিংবা কোন বর্ষন মুখর সন্ধ্যাতেও আইরিন কে দেখেছে ঐ জানালার পাশে দঁাড়িয়ে থাকতে। আবার স্বামী সংসারের প্রতি অসাধারণ মমত্ববোধ ফুটে ওঠে আইরিনের সব কার্যকলাপে।
জুয়েল-ই একটা কাজের মেয়ে রেখেছে যাতে আইরিনের কষ্ট না হয়। জুয়েল আর আইরিনের বিয়েটা সবার ইচ্ছায় হয়েছে। আইরিনের কম আগ্রহ যে ছিল তা নয়। সংসারে একটু ঝামেলা, রাগ অভিমান তো থাকবেই।
এমন এক সময় এই অবস্থার জন্য আইরিনের মা তাকে একবারে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আইরিন-ই যায়নি, ও মাকে জানিয়েছিল খেয়ে থাকি না খেয়ে থাকি নিজের ঘরেই থাকব। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তো প্রেমিক প্রেমিকার সম্পক নয় যে গার্জেন পক্ষ প্রেসার প্রয়োগ করলেই মাথা নিচু করে চলে আসতে হবে।
তাদের ধমক সইতে হবে। জুয়েল তার শ্রম দিয়ে তৈরি করেছে একটি দু-তলা ফ্ল্যাট আর জীবনের জন্য বেছেনিয়েছে ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান একটি কনফেকশনারীর দোকান। ফ্ল্যাটটি সুন্দর ও পরিপাটি। আইরিন খুব যত্ন করে নিজ হাতে পুরো সংসারটি সাজিয়েছে।
ওদের মেয়েটা বেশ বড় হয়েছে নাম আরফি। ও কঁাদছে, আইরিন ওকে থামানোর চেষ্টা করছে। খুব জোড়ে কঁাদছে। আইরিনের চিন্তা আর মেয়ের কান্না সব মিলিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে অসহ্য লাগছে।
জুয়েল ওঠে সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে খুব স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে আরফি এভাবে কঁাদছে কেন? আইরিন পিছন ফিরে দেখে জুয়েল, বলে তুমি আবার ঘুমটা নষ্ট করে ওঠে এলে কেন? ও এত কঁাদছে কেন?
কি হয়েছে? কি আর হবে এটা তো ওর অভ্যাস। জুয়েল দু’হাত বাড়িয়ে আরফিকে কোলে তুলে নেয়। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলে ঠিক আছে সোনা মা আজ তুমি যা চাইবে আমি তাই দেব। এতক্ষণ আরফির কান্না থেমে গেছে।
আইরিন জানে, বোঝে এবং মানে বাস্তব বড় নির্মম। কঠিন বাস্তবতার মাঝে মনের কোমল রিপু গুলি যেন শুকিয়ে না যায় সে দিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। তাহলে জীবনটা যতই কঠিন হোক তবুও জীবন শুর“ গম্ভির মেঘ কেটে গিয়ে তার ফঁাকে সিগ্ধ চঁাদ উকি দেবে।
কিন্তু আজ আইরিন কি করবে? ওর শরীরে যে রাজ্যের সব ক্লান্তি নেমে আসছে। বুকের মধ্যে সেই চেনা কষ্টটা বার বার উঁকি দিচ্ছে। হৃদয়ের মর“ ময়দানে বালির বঁাধে আবার ঝড় উঠেছিল।
হঁ্যা আজ রাতে আবার সেই ঝড়টা মোবাইলের নেটওয়ার্ক বেয়ে ওর হৃদয় তন্ত্রীতে রিনিঝিনি করে সুরের মূর্ছনা বেজে উঠেছিল। সেই থেকে আইরিন ঘুমাতে পারেনি।
এপাশ ওপাশ করতে করতে এক সময় ভোরের আলো পৃথিবীর বুকে এসে পড়েছে।
আইরিন অত্যন্ত অভিমানী একটা মেয়ে। এই অভিমানের কারণে আইরিন মাহমুদকে হারিয়েছে ওর জীবন থেকে। আইরিন মাহমুদকে ভালোবেসেছিল। মাহমুদই হতো ওর স্বামী।
ওদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। ছোট্ট একটা ভুল। হয়তো মাহমুদেরই। ভুলটা সুধরানোর কোন সুযোগ পায়নি মাহমুদ। আর আইরিনের সেই অভিমান,
আজ দুজনে দুই সিমানায়। দূরত্ব মানুষকে কষ্ট দেয়। মাহমুদ একা নিঃস্ব।
বিয়ের বয়স প্রায় পার হয়ে যাচ্ছে মাহমুদের। অথচ বিয়ে করছে না। এটাই সব চেয়ে বড় কষ্ট আইরিনের বুকে। আইরিন ইচ্ছে করে জুয়েল কে বিয়ে করেছে।
ওর ইচ্ছে না থাকলে পৃথিবীর কোন শক্তি ওকে হঁ্যা করাতে পারতো না। আইরিন ঐ বিয়েতে মত না দিল কেউ বঁাধা দিত না। তবে আইরিনের মত আর ওর মায়ের তড়িঘড়ি, এই জন্যেই তাড়াতাড়ি হয়েছে বিয়েটি।
সব সময় ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করে মাহমুদ। এতো ব্যস্ততার মাঝেও এক সেকেন্ডের জন্য ভুলতে পারেনি আইরিনকে। ভুলতে পারেনি ফেলে আসা অতীতের স্মৃতিকে।
যাকে ভালোবাসা যায় তাকে দোষ দেওয়া যায় না। নিজের ভুলটা আজও বলতে পারেনি আইরিনকে। বললে যদি বিশ্বাস না করে। আর কেন বিশ্বাস করবে? কি প্রমাণ আছে মাহমুদের কাছে।
এত কিছুর পরেও ফোন করে মাহমুদ আইরিন কে। আইরিন উপক্ষো করতে পারে না। মাহমুদ বলে- আইরিন তুমি সুখে থেকো।
সুখী হও। তোমার অনীহার ফলে আমার মনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে জনম জনম ধরে তোমার জন্য আশর্ীবাদ নির্গত হবে চিরদিন। সত্যি কারের ভালোবাসা কাউকে অভিশাপ দেয় না,
নেয় না প্রতিশোধ। এই সব কথা আইরিনের হৃদয়ে বিষাক্ত তীরের মত বিঁধে। ছটফট করে প্রতিনিয়ত। এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। এই সব স্মৃতিময় কথা মনে হলেই আইরিন ছুটে যায় ঐ জানালার পাশে। উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দিগন্ত জোড়া ঐ বিশাল আকাশের দিকে।
গল্প সম্পর্কে
পরাজিত হৃদয়ের কান্না —এই কথাগুলোতে ব্যথা, হার মানা আর নিঃশব্দ যন্ত্রণার এক গভীর অনুভূতি লুকিয়ে আছে।
এমন হৃদয় যে পরাজয়কে জড়িয়ে ধরে, তার কান্না হয়তো কেউ শুনতে পায় না, কিন্তু তা গভীরে গেঁথে যায়।হার মানা হৃদয়ের কান্না কেউ দেখে না,
শুধু আঁধার জানে কতটা যন্ত্রণা বয়ে বেড়ায় সে।পরাজয়ের গ্লানি ধুয়ে ফেলো অশ্রুতে, কারণ প্রতিটি কান্নাই একদিন নতুন শক্তির জন্ম দেয়।ভাঙা হৃদয়ের কান্না আকাশে মিশে যায়, কিন্তু তার দাগ থেকে যায়—অদৃশ্য অথচ অনিরাময়।
এই ব্যথা যদি আপনার নিজের হয়, মনে রাখবেন—পরাজয় কখনই চূড়ান্ত নয়। হৃদয় ভাঙলেও তা আবার জোড়া লাগে, শুধু সময় আর নিজেকে বিশ্বাস রাখতে হয়। ❤️
আমাদের সম্পর্কে
স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।
আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।
এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।
আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।
Excellent article — clear benefit in every paragraph.
The whole website feels premium.