ভুল

ভুল

মানবজীবনের কোন ভৌগলিক সীমা নেই। সীমা নেই কোন জন্ম, মৃত্যু, প্রেম ভালবাসার। প্রকৃতি এক অজ্ঞাত রহস্যে ভরা। অদ্ভূত নিয়মে এই আসা-যাওয়া, চাওয়া-পাওয়ার খেলা।

আজ ২০ নভেম্বর। কেটে গেছে দীর্ঘ পঁাচটি বছর। স্মৃতি-বিস্মৃতি আর জীবনের ঘাত প্রতিঘাতে। এই ছোট্ট জীবন থেকে অনেক সময়ই পার করেছে মার“ফ।

কত স্বপ্ন তার, সময়ের আবর্তে তা পূরণ হয় নি। হৃদয়ে থেকে গেছে জীবনের রিপুগুলো। মার“ফ জানে জীবনে সুখ নামের সুখ পাখিটি খঁাচা ছেড়ে অনেক আগেই উড়াল দিয়েছে। এখনো হয়তো সাধ খুঁজে গন্ধহীন জীবনের। চাওয়া-পাওয়ার এক ব্যর্থ চেষ্টা।

একই ছাদের নিচে থেকে যৌন সুখ ছাড়া মনের সুখ হয়তো দিতে পারেনি ফার“ক। কেন? এর উত্তর নেই, মিমাংসা নেই।

অধরাকে খুব পছন্দ করে মার“ফের মা পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে এনেছিল ছেলেকে সুখী দেখার অভিলাষে। ভাগ্য মানুষের জীবনটা বদলে দেয়। অনেকবার দু’জন মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিবার মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে অধরা। অনেক আগেই নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়েছে অধরা। কিন্তু……….?

সংসার নামের এক মায়া জালে আবদ্ধ অধরা। ইচ্ছে করলেও ছিন্ন করতে পারে না এই মায়ার বঁাধন। কারণ মেয়ের মুখের পানে চাইলে জীবনের সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যায়।

এত কিছুর পরেও অধরা আজ ও এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারে নি আকাশকে। ভুলতে পারেনি আকাশের স্মৃতি। ভুলতে পারে নি ফেলে আসা অতীত। যাকে আজও ভালবাসে অধরা।

 যার জন্যে আজ ও অশ্র“ ঝড়ে দু’নয়নে।
মার“ফ জানে বুঝে সব কিছু। স্বামী হিসাবে নিয়েছিল অধরা বাস্তবকে অস্বীকার করা যায় না বলে। অধরার কেবল দেহই পেয়েছে মার“ফ মনের নাগাল আজও পায় নি। আর পাওয়ার মিছে আশা করেও না।

 অধরার কি দোষ মন তো বাজারের পণ্য নয় যে সব সময় টাকা দিয়ে পাওয়া যায়। মনতো একটা…….? অধরা সব দুঃখ কষ্ট ত্যাগ করে অনেক বিশ্বাস করে দেহ মন উজার করে সপেছিল মার“ফের কাছে। কি পেয়েছে অধরা।

 মনের সব দুঃখ হৃদয়ের সব কষ্টকে পাথর চাপা দিয়ে সংসারকে আকড়ে ধরতে চাওয়া কি অপরাধ? মার“ফ স্বামীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নি অধরাকে। কিন্তু অধরা দু’জন দু’জন কে আজও মেনে নিতে পারেনি। পৃথিবীতে একা মার“ফ। 

নিজের জন্যে নিজে আজ নিঃস্বাদ। মা ছিল অনেক আগে তাকে ছেড়ে চলে গেছে আকাশ পানে। সংসার স্ত্রী মেয়ে এখন সবই পর মনে হয় তার কাছে। টাকা দিয়ে অনেক কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু মন?

আকাশ অনেক ব্যস্ত। সময় যায় তার ধারায়। এত ব্যস্ততার মাঝে আজ অবধি অধরার স্মৃতি এক মুহুর্তের জন্য ও ভুলতে পারেনি। হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি অধরার ভালবাসা। এত দিন পরেও আকাশের মনে অধরার প্রতি ভালবাসা আগের মত। মনের বিশ্বাসই হৃদয়ে ভালবাসার জল দেয়।

বিয়ের কথা আর ভাবেনা আকাশ। একটু অবসরে আকাশ যেখানে বসে। সেই জায়গাটা আকাশের খুব প্রিয়। এখানে আসলেই অতীতে ফিরে যায়। ভাবে অধরার কথা। নদীর ধারের দক্ষিণা হাওয়া তার চিরদিনের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী। কেমন আছে অধরা। হয়তো.........?

এই কথাগুলো ভাবতেই হৃদয়টা বিষণ্নতায় ভরে যায়। হৃদয়টা ব্যাথায় টনটন করে ওঠে।

নদী অধরার খুব প্রিয়। নদীতে পালতোলা নৌকা আর মৃদু-মন্দ বাতাসে ঢেউয়ের তরঙ্গ, অধরার মন থাকতে সর্বদা চঞ্চল। আকাশের মনের ভেতর জমাট কষ্টগুলো কেমন আনমনে হানা দেয়। পৃথিবী এক মায়ার বঁাধনে আবদ্ধ।

সময় এক মর“ময় বালুকা বেলা। একটা নিশ্চিত স্বপ্ন ভেঙ্গে একাকার এই জগত সংসারে।আকাশে মেঘের ঘনঘটা। মেঘের স্তুপ সারা আকাশ জুড়ে। মেঘের মন আজ অনেক খারাপ। এখনই হয়তো ঝরে পড়বে মাটির বুকে। খড়ায় খঁা খঁা জমিনের হৃদয় হবে সিক্ত।

অনেক দিন হয়ে গেল অধরা কেমন আছে, খুব জানতে ইচ্ছে করে আকাশের কিন্তু অধরার সুখের কথা ভেবে আকাশ আর সামনে এগুতে পারে না। আকাশের কষ্ট শুধু অধরার জন্য।

এ কষ্ট একান্ত নিজের এ দুঃখ একান্ত মনের। শুধু একটু ভুল। জীবন আজ ক্লান্ত উদাসীন। স্বার্থ ছাড়া কেউ কোথাও থামে না। সময় অল্প গন্তব্য বহু দূর।

আমরা আসলে কি নিয়ে যাচ্ছি গন্তব্যে। এক একটা ভুল আজীবন কপালে কালো দাগ একে দেয়। ক্ষত-বিক্ষত হয়ে দংশায় সেই দাগ। আগুন হয়ে পোড়ায়, পুঁজ রক্ত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায় জীবন ভর।

ভুল হলো এমন এক সূক্ষ্ম সুতো—যা জীবনের কাপড়কে হয়তো কখনো অগোছালো, আবার কখনো নকশাখচিত করে তোলে।

একদিন রিদয় গণিত পরীক্ষায় ভুল করে ফেলে একটি সহজ সমীকরণে। শিক্ষক লাল কালিতে লিখে দেন—

এত দিনেও শিখলে না?সেই দিন বাড়ি ফেরার পথে সে দোকানে রাবার কিনে—যেটি আশ্চর্যজনকভাবে ভুল শুধরে না, বরং ভুলকে জীবন্ত করে!

একটি ছোট ভুল, যদি ঠিক না করা হয়, তবে সেটি একদিন বড় ফল বয়ে আনতে পারে ।

স্বাগতম “শিরোনাম সাহিত্য”-এ — আমার হৃদয়ের ক্যানভাসে।
এই ব্লগটি আমার স্বপ্ন, ভাবনা আর সৃজনশীলতার একটি আড্ডাখানা।
এখানে বাংলা সাহিত্যের রঙে মুখর হয়ে ওঠে কবিতা, গল্প আর জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত।

আমি একজন গল্পকার, কবি এবং বাংলা ভাষার একনিষ্ঠ প্রেমিক।
“শিরোনাম সাহিত্য” আমার সেই প্রয়াস, যেখানে শব্দ দিয়ে গড়ে তুলি আবেগ, চিন্তা আর কল্পনার জগৎ।

এখানে পাবেন হৃদয় ছোঁয়া কবিতা, জীবনের গল্প, আর সাধারণ মুহূর্তের অসাধারণ রূপ।

আমার লক্ষ্য:
বাংলা ভাষার প্রেমীদের জন্য একটি আশ্রয় তৈরি করা।
যেখানে শব্দের জাদুতে আমরা সবাই হারিয়ে যেতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *